• সোমবার ৩রা আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    করোনা পরিস্থিতি ও দুর্বল পারিবারিক বন্ধন

    শাহাজাদা মিলন

    ০৬ জুলাই ২০২০ ৯:৩২ অপরাহ্ণ

    করোনা পরিস্থিতি ও দুর্বল পারিবারিক বন্ধন

    শাহাজাদা মিলন

    করোনায় আক্রান্ত হলে অনেক পরিবার, পাশের বাসা, বাড়িওয়ালা যে নজরে দেখছেন এবং শারীরিক ও মানসিক হেনস্থা করছেন, মনে হচ্ছে করোনার রোগী বড় ধরণের পাপী ও অভিসপ্ত। আমি করোনায় যদি আক্রান্ত হই তার মানে আমি অভিসপ্ত? উন্নত দেশগুলোর মন মানসিকতা আর আমাদের মন মানসিকতার তফাৎ এখানেই।

    আমরা যদি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ হই তখনো যদি কোনো মহামারি আসে এখন যেটা হচ্ছে, তখনো এমনটাই ঘটবে। এটার জন্য দায়ী মানসিকতা।

    প্রাথমিক থেকে শুরু করে এমএ পর্যন্ত নৈতিক আচরণের শিক্ষা নিয়ে কয়টা আলোচনা আছে? পরিবর্তন হয় ধীরে ধীরে। সবাই যদি বলি বাংলাদেশের কোনো পরিবর্তন হবে না। তবে পরিবর্তনটা করবে কি ভিন্ন গ্রহের কেউ এসে। নাকি কোনো মিরাকল যদি ঘটে এই আশায় বসে আছি আমরা। না অন্য দেশ থেকে আমদানী করা লোক আমাদের পরিবর্তন কি জিনিস সেটা দেখিয়ে দিয়ে যাবে।
    আজকে যারা করোনার রোগীকে ঘৃণার চোখে দেখছি কাল যে আপনার হবে না তার গ্যারান্টি দিচ্ছে কে?

    এখন অনেক সন্তানরা তাদের বাবা/মা-কে ফেলে পালিয়ে যাচ্ছেন হাসপাতালে কিংবা সড়কে। টেলিভিশনের খবরে প্রায় চোখে পড়ছে বয়স্ক মানুষগুলোর করুণ অবস্থা। জন্মদাতা পিতা-মাতাকে যারা অবলীলায় ধাক্কা মেরে ফেলে দিচ্ছে তাদের পারিবারিক বন্ধন এতোটাই দুর্বল একটি বারের জন্যও কি হবে ভাবার সময় অনেক সন্তানদের হচ্ছে না।

    সাধারণ ফ্লু না করোনাভাইরাসের কারণে জ্বর হলো একটা বার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অথবা হাসপাতালে নেয়া প্রয়োজন মনে করছে না এসব সন্তানেরা। অবশেষে স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ঠাঁই মিলছে বৃদ্ধাশ্রমে। সন্তানদের জন্য বাবা-মা উজার করে লালন পালন পড়ালেখা অনেক ক্ষেত্রে চাকরির জন্য জমি বাড়ি বিক্রি করে দেয় শেষ বয়সে ভালো থাকার আশায়। সহায় সম্বল সন্তানদের দলিল করে দেয়ার পর তাদের জায়গা হচ্ছে পরিবারহীন জায়গায়। অথচ শেষ বয়সটা কাটানোর কথা ছিল নাতি নাতনির সাথে আনন্দের সাথে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঠিক ঘটছে উল্টো।

    আবার এই সমাজেই অনেকে সন্তানদের সাথে থাকছেন বোঝার মতো। এ সন্তানরা মান সম্মানের ভয়, লোকলজ্জায় হয়তো বাবা মাকে দূরে ঠেলতে না পারলেও প্রতিটা দিন তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছেন তাদেরকে। এই সন্তানেরা না পারছে বাবা-মাকে সরিয়ে দিতে না পারছে সহ্য করতে।

    করোনাভাইরাসের ৪ মাস পর এখন সব ক্ষেত্রে অর্থ সংকটে অধিকাংশ মানুষ। স্বাভাবিক জীবন হারিয়ে অস্থিরতা, বিষন্নতা কাজ করছে অধিকংশ মানুষের মধ্যে। সাধারণ নিম্নবিত্তরা দারিদ্রসীমায় অবস্থান করছে এখন। এমন পরিস্থিতিতে ডাক্তার কিংবা হাসপাতালের বিল বাড়তি ঝামেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে অনেকের। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ভোগান্তি। যেকোনো চিকিৎসার জন্য আগে করোনার সার্টিফিকেট চাচ্ছে হাসপাতালগুলো।

    একদিকে অর্থ সংকট, পারিবারিক অস্থিরতা। আরেকদিকে শারীরিক ও মানসিক ভোগান্তিতে বিপর্যস্ত জনজীবন। সব মিলিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা চলছে বেশিরভাগ মানুষের মাঝে।

    করোনায় যেমন কিছু নার্স ডাক্তার রোগীদের সেবায় নিজের জীবন বিলিয়ে দিচ্ছে ঠিক মুদ্রার উল্টো পিঠও সরাসরি দেখা যাচ্ছে। করোনা আক্রান্তের সেবায় প্রায় হাসপাতালের ডাক্তার নার্স সহযোগীরাও এড়িয়ে যাচ্ছে।

    প্রায় প্রতিদিন টেলিভিশনের খবরে সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, `চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যু’। কয়েকটা হাসপাতাল ঘুরে কোথাও ভর্তি না হতে পেরে মৃত্যুর কাছে অনিচ্ছা সত্বেও নিজেকে সপেঁ দিতে বাধ্য হচ্ছে কেউ কেউ। সীমাবদ্ধ হাসপাতালগুলোতে সীটের কয়েকগুন বেশি রোগী ভর্তি হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে কোনো ফল ছাড়াই অন্য হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছে। প্রায় ১৮ কোটির ছোট জনবহুল দেশে সব মিলিয়ে ২০ হাজার আইসিইউ বেড রয়েছে কিনা সন্দেহ। প্রতিদিন যে পরিমাণ রোগী করোনা থেকে মুক্ত হচ্ছে তার চেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে গত একমাস ধরে। সরকার ইতোমধ্যে ২৬শে মার্চ থেকে শুরু করা ৬৬ দিন চলা সাধারণ ছুটি উঠিয়ে বর্তমানে রেড ইয়েলো গ্রীন জোনে ভাগ করে লকডাউন দিচ্ছে। রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের পর ওয়ারীতে দেয়া হয়েছে লকডাউন।

    লকডাউনে থাকার পর এ এলাকায় আবার বাইরের লোকজন আসা যাওয়া করবে কিংবা এখানের বাসিন্দারা বাইরে যাবে এটা খুব সহজ বিষয়। ফলে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে সেই পুরোনো রুপে ফিরে যাবে অত্র এলাকা। একটি এলাকা বন্ধ করে খুব একটা পজিটিভ ফলাফল আসবে বলে মনে হচ্ছে না খালি চোখে। তবে সরকার যদি শুধুমাত্র তিন বেলা সাধারণ খাবার (একটি পরিবারের হিসেবে ৮৪ কেজি চাল, ৫ কেজি ডাল, ১০ কেজি আলু,৫ কেজি তেল, ২ কেজি লবন) দিয়ে ভোটার আইডি জমা রেখে ১ মাস পর দ্বিতীয় বার এই খাবার বণ্টন করতে পারে আশা করি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

    এদেশের বেশির ভাগ মানুষ এখনো নিম্ন জীবন যাপন করে। শুধু খাবারের যোগনটা দেয়া সম্ভব হলেই করোনা থেকে আমরা মুক্ত হতে পারবো।

    লেখক : কলামিস্ট ও চাকরিজীবী।

    স্বপ্নচাষ/আরএস

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ৯:৩২ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০

    swapnochash.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: গুরুদাসপুর, নাটোর-৬৪৩০
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2020 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।