• সোমবার ৩রা আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    বগুড়ায় দুশ্চিন্তায় আমন চাষিরা

    স্বপ্নচাষ ডেস্ক

    ২৯ জুলাই ২০২০ ৬:৪২ অপরাহ্ণ

    বগুড়ায় দুশ্চিন্তায় আমন চাষিরা

    বৃষ্টি আর বন্যার সাথে লড়ছে বগুড়ার তিন উপজেলার চাষিরা। বন্যার সাথে যোগ হয়েছে করোনাভাইরাস। এসব দুর্ভোগ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে জেলার আমন চাষিরা। ১২ উপজেলার মধ্যে তিন উপজেলা বন্যাকবলিত বলে আমনের ফলনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

    জানা যায়, চলতি শ্রাবণের বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আমন ধান চাষে ঝুঁকে পড়ার কথা ছিল চাষিদের। কিন্তু বন্যা ও করোনায় বেশ ঢিমে তালে চলছে আমন চাষ। বন্যায় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে জেলায় আমন চাষ। জেলায় ১২টি উপজেলার মধ্যে পুরো বন্যায় ঢুবে আছে সারিয়াকান্দি উপজেলা।

    এর সাথে অর্ধেক এলাকা বন্যায় ডুবছে জেলার সোনাতলা ও ধুনট উপজেলা। এছাড়া জেলার সদর উপজেলা, শেরপুর, গাবতলী ও শিবগঞ্জ উপজেলার নদীপাড়ের নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে আরো বেশ কয়েক হাজার হেক্টর জমি। গত মাসের ২৫ জুন থেকে বন্যার পানি দেখা দেয়। এক মাস পার হওয়ার পরেও বন্যার পানি নামছে না। সে কারণে আমন চাষ নিয়ে আমন চাষিদের সাথে শঙ্কিত হয়ে আছে জেলার কৃষি কর্মকর্তারা।

    বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উত্তরের জেলাগুলোর মধ্যে বগুড়া একটি কৃষি প্রধান এলাকা। ধান, পাট, সবজি, মরিচ, ভুট্টা, আলু, সরিষার জন্য বগুড়া কৃষি ক্ষেত্রে বরাবরই অবদান রাখছে। তবে এবার আমন চাষের জন্য তিনি উপজেলায় সঙ্কট রয়েছে। তারপরেও জেলায় এবার আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৩৫ হেক্টর। চাল আকারে ফলন ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬১ হাজার ৪৩৪ মেট্রিক টন।

    আর গত বছর চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৩৫ হেক্টর। চাল আকারে ফলন ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৪৩০ মেট্রিক টন। গত বছর একই পরিমাণ জমিতে আমন চাষ করে ফলন বেশি পাওয়া গেলেও এ বছর বন্যার কারণে ফলন লক্ষ্যমাত্রা কম ধরা হয়েছে। কিন্তু তারপরও শঙ্কিত হয়ে আছে কৃষি বিভাগ। বন্যা দির্ঘস্থায়ী হলে সময়মত আমন চাষ করতে না পারলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়া নিয়ে চিন্তায় পড়তে পারেন কৃষি কর্মকর্তারা। এ বছর আমনের ক্ষেত ও বীজতলাসহ প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতি হয়ে আছে। বন্যার পানি নেমে গেলে চাষের আওতায় চলে অসবে। আর পানি না নেমে গেলে ক্ষতির মুখে পড়বে আমন চাষিরা।

    বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও সোনাতলায় কৃষকেরা বন্যার কারণে এখনো পুরোদমে আমন চাষে নামতে পারেনি। দুই একটি উচুঁ স্থানে আমন চাষ হলেও বন্যার কারণে অর্ধেক উপজেলায় এখনো চাষ হয়নি। উপজেলায় আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে ৮০ আটি বীজের দাম ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে বগুড়ার ৯টি উপজেলায় বন্যার তেমন বাধা না থাকায় আমন চাষ শুরু হয়েছে। বগুড়া সদরের মাটিডালি, সাবগ্রাম, শ্যামবাড়িয়া, দ্বিতীয় বাইপাস সড়ক, বারপুর ফুলবাড়ি এলাকাসহ বেশ কিছু এলাকায় আমন চাষিদের মাঝে ব্যস্ততা দেখা গেছে। উল্লেখিত এলাকার আমন চাষিরা বীজ সংগ্রহ করে শ্রাবণের জমে থাকা বৃষ্টির পানিতেই আমন চাষ শুরু করেছে। জেলার উঁচু বা বন্যা কবলিত হয়নি এসব এলাকার চাষিরা সেচ দিয়ে আমন চাষ করেছে।

    বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান জানান, বগুড়ার কয়েকটি এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত জমি ও কৃষকের তলিকা তৈরী করা হচ্ছে। বন্যার পানি নেমে গেলে আমন চাষের কোন ক্ষতি হবে না। বগুড়ায় এখনো এক মাসের বেশি সময় ধরে বন্যা রয়েছে। চলতি বছর আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৩৫ হেক্টর। চাল আকারে ফলন ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬১ হাজার ৪৩৪ মেট্রিক টন। জেলার অন্যান্য উপজেলায় বন্যা না থাকায় পুরো দমে আমন চাষ হচ্ছে।

    স্বপ্নচাষ/এসএম

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ৬:৪২ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২০

    swapnochash.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: গুরুদাসপুর, নাটোর-৬৪৩০
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2020 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।